আপনার কঠিন সময়ের সদ্ব্যবহার করুন!

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এক লেকচারে বলছিলেন, “আমার এক ভাই। আমার কাছে সাহায্যের জন্য এসেছে। এসে বলল, হুজুর আমার অনেক কোটি টাকার সম্পত্তি বিজয়নগরে। একজন ডেভেলপারকে দলিল দিয়েছি। এখন দলিলও দিচ্ছে না, এগ্রিমেন্টও করছে না, টাকাও দিচ্ছে না। বোধহয় হুজুর দলিলটা আমার মার গেল, জমিটা আমার শেষ। অনেকে বলেছে অমুক হুজুরের কাছে গেলে জ্বিন দিয়ে করে দেবে। অমুক হুজুরের কাছে গেলে ত্বদবির করে দেবে। কিন্তু আপনারা বলেন এসব ত্বদবির শিরক, এসব ত্বদবিরে ঈমান থাকে না। আপনার কাছে এসেছি হুজুর, একটু বলেন তো কি করব?’

‘সুন্নত কয়েকটা দোয়া আল্লাহর কাছে, মানুষের জুলুম থেকে বাঁচার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শিখিয়েছেন। বললাম যে, এই দোয়াগুলো মুখস্ত করবেন। তিনটা না চারটা দোয়া। তাহাজ্জুদের সময় দোয়া আল্লাহ কবুল করেন, পারলে। না পারলে এমনি নামাজের সময় পড়বেন, সেজদায় গিয়ে পড়বেন। অর্থ বুঝে কাঁদবেন। হাত তুলে কাঁদবেন। আর যদি পারেন তাহাজ্জুদের সময় উঠে, তাহাজ্জুদের সেজদায়, তাহাজ্জুদ পড়ে হাত তুলে আল্লাহর কাছে এই দোয়াগুলো পড়বেন। পারলে একটু কান্নাকাটা করবেন।’

মাসখানেক পরে লোকটা এসে বলছে, হুজুর আলহামদুলিল্লাহ ওই লোকটা এসে আমার দলিলটা দিয়ে চলে গেছে।

কয়েক কোটি টাকার দলিল, ওই লোকটা ওর বাড়িতে দিয়ে চলে গেছে। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ। খোশ খবর।

সে বলে, না হুজুর। মনটা ভালনা।
বললাম, কেন?

বলে, হুজুর আপনার কথামতো, আগে তো আল্লাহর কাছে কাঁদতে পারিনি। এখন জমির ভয়ে তাহাজ্জুদের সেজদায় গিয়ে কান্নাকাটা করছিলাম। কিন্তু আল্লাহর কাছে কাঁদতে যে কত মজা, এত আরাম আর শান্তি লাগছিল হুজুর দোয়া করে, চোখের পানি দিয়ে। এখন আমার মনে হচ্ছে আরো ছয়মাস যদি দলিলটা না পাইতাম আর আল্লাহর কাছে কাঁদতাম। তাহলে বোধহয় আরো শান্তি লাগত।”

শায়খ আলী হাম্মুদা বলেন,
মানুষ কখন সবচেয়ে বেশি আল্লাহর নিকটবর্তী থাকে? কখন?
যখন সে কোন কিছু অর্জন করে, তখন?
নাকি যখন সুখে শান্তিতে থাকে, তখন?
না, বরং যখন সে দুঃখে কষ্টে নিমজ্জিত হয় তখনই সে আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয়। আল্লাহর কথা স্মরণ করে, আল্লাহর কাছে চায়। তাই এ সময়টা কাজে লাগান।”

আসলেই। মানুষের জীবন আনন্দ, দুঃখ-কষ্ট বেদনায় পরিপূর্ণ। কিন্তু আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে দুঃখ, কষ্টে পতিত অবস্থায়। এ সময়ই আল্লাহর কথা সবচেয়ে বেশি স্মরণ হয়।

এমনিতে হয়তো আপনি কখনো আল্লাহর কাছে কাঁদতে পারেন না। হৃদয় শক্ত হয়ে গেছে। তাহলে আপনার কঠিন সময়ের সদ্ব্যবহার করুন। আল্লাহর কাছে প্রাণখুলে কাঁদুন। তাহাজ্জুদে কাঁদুন, আল্লাহর কথা সর্বদা স্মরণ করুন। এতে হয়তো তাৎক্ষণিক আপনার কঠিন সময়টা কেটে যাবেনা। কিন্তু আপনি আল্লাহর আরো কাছাকাছি হতে পারবেন, অনেক তৃপ্তি পাবেন।

পরে আপনার ভাল সময় আসলে হয়তো মনে হবে, ইস আরো কিছুদিন খারাপ অবস্থায় থাকলেই বোধহয় আরো শান্তি লাগত।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*