আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আছো আবার সুখী জীবন চাও?

শায়খ ড. মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আরিফী সালাতের ভূমিকা নিয়ে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ
“মসজিদে বক্তৃতা দিয়ে বের হওয়ার প্রাক্কালে এক যুবকের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। সে আমার কাছে কুরআনের কিছু আয়াত পড়ে ঝাঁড়ফুঁকের জন্য আবদার করল; যেন তার পেরেশানী দূর হয়ে যায়। আমি ঝাড়ফুঁক করি না। বরং অন্যদের কাছে যাওয়ার জন্য বলি। আমি কৌতুহলী হয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম, তোমার কী সমস্যা?

সে বলল, শায়খ, আমি এত পেরেশানীতে আছি যে, সমগ্র রিয়াদবাসীর উপর যদি তা বন্টন করে দেওয়া হয় তাহলেও তা কমবে না। অতঃপর সে কাঁদতে লাগল।

তার বয়স আনুমানিক ২৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বড় ব্যবসায়ীর পুত্র। পিতার পরিচয় দিলে আমি তাকে চিনতে পারলাম। পিতা প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী একজন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী। বাড়ি, গাড়ি, অর্থ-কড়ি সব কিছুই তাদের আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সে সুখী নয়। অতঃপর সে আমাকে জানাল যে, মেয়েদের সাথে তার সম্পর্ক আছে।

আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কি সালাত আদায় কর?

সে বলল, না। আমি বললাম, কেন সালাত পড় না? তোমার ও আল্লাহর মাঝে এমন কি শত্রুতা আছে যে, তুমি সালাত বর্জন করে দিলে? আমি বললাম, তুমি কি একেবারেই সালাত পড় না?

সে বলল, আমাদের বাসায় মেহমান এলে তারা যদি সালাতের জন্য দাঁড়ায় তাহলে আমি চাপে পড়ে সালাত আদায় করি। অনেক সময় অজু ছাড়াই দাঁড়িয়ে যাই। কখনো বা যদি শেষ দুই রাকাআতে ইমামকে পাই; তখন নামায শেষ না করে ইমামের সাথেই সালাম ফিরিয়ে ফেলি।

আমি বললাম, কত দিন ধরে এই অবস্থা? সে বলল, নয় বছর ধরে। আমি বললাম, আল্লাহ পানাহ!! আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আছো আবার সুখী জীবন চাও? আল্লাহর শপথ, মদ্যপান, হারাম দৃষ্টি ও মেয়েলী সম্পর্ক রেখে কখনো শান্তি পাবে না।

তোমার আত্না শান্তি পাবে যদি নিয়মিত সালাত আদায় কর। তাই তোমাকে পরামর্শ দিচ্ছি, এক সপ্তাহ প্রথম কাতারে মসজিদের সালাত আদায় করবে। তারপর আগামী মঙ্গলবার আমার নিকট আসবে।
মঙ্গলবার আসলে দেখলাম সে আমার অবস্থান ফলো করছে। আমি তাকে সম্পূর্ণ ভুলেই গিয়েছিলাম। যখন বের হলাম, আমাকে দেখে বলল, শায়খ, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি এমন প্রশান্তি ও স্বাচ্ছন্দে আছি যা বিগত নয় বছরও আস্বাদন করি নি।

তাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেই কাজে মগ্ন হওয়ার পর এই হচ্ছে সেই যুবকের অনুভূতি যা সে এখন অনুভব করছে। মানুষকে একমাত্র ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই যখন সে ইবাদতে নিজের দেহ মন সঁপে দিবে তখন সে শান্তি পাবে। যেমন এই গ্লাস বানানো হয়েছে পানি পান করার জন্য। কাজেই তাকে আপনি লেখার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। কেননা, তাকে নির্দিষ্ট কাজের জন্য বানানো হয়েছে। তদ্রুপ আমরা এটি জুতা বা চশমা হিসাবে ব্যবহার করতে পারি না। এই গ্লাসকে যদি আগুনের পাত্র হিসাবে ব্যবহার করেন তা ভেঙ্গে যাবে। তদ্রুপ জুতা হিসাবে ব্যবহার করলেও।

আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য। তাই দেহ মনকে যদি অন্যত্র ব্যবহার করেন কখনো শান্তি পাবেন না।

#সালাত মনে প্রশান্তি আনে

______________________

তথ্যসূত্র: ঘটনাটি শায়খের ‘Put Your Importance’ বই থেকে নেওয়া হয়েছে। বইটি হুদহুদ প্রকাশনী বাংলায় ‘এসো অবদান রাখি’ নামে প্রকাশ করেছে।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*