ইস্তেগফার – আপনার সকল সমস্যার সমাধান! (ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল র. এর ঘটনা)

হাসান আল বসরী (র) এর সময়কার একটি ঘটনা। তিনি ছিলেন, একজন প্রখ্যাত আলেম।

তিনি ছিলেন একজন নেককার মানুষ এবং উনার অনেক ছাত্র ছিল। একদিন ছাত্রদের সাথে তিনি ব্যস্ত ছিলেন। তখন একজন মানুষ আসল এবং বলল, শায়খ, আমি অনেক সমস্যার মধ্যে আছি।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি সমস্যা?

সে বলল, আমাদের ভূমিতে কোন বৃষ্টি নেই, অনাবৃষ্টি আমাদের গ্রাস করেছে, আমাকে করার মত কিছু দিন।

তিনি বললেন, ইস্তেগফার করা বাড়িয়ে দাও।

সে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে গেল।

অন্য একজন মানুষ এল এবং বলল, শায়খ, দারিদ্রতা আমাদের গ্রাস করেছে। আমাদের কোন আয় নেই, কোন অর্থ নেই।

তখন তিনি বললেন, ইস্তেগফার, ইস্তেগফার করা বাড়িয়ে দাও।

উনার ছাত্ররা দেখছিল।

তৃতীয় একজন মানুষ এল এবং বলল, শায়খ, আমার কোন সন্তান নেই।

তিনি বললেন, ইস্তেগফার করা বাড়িয়ে দাও।

ছাত্ররা দেখল এবং প্রশ্ন করল, শায়খ, প্রত্যেক মানুষ আসছে তাদের অসুস্থতা বা অন্য যাই হোকনা কেন, আপনি তাদের একই চিকিৎসা দিচ্ছেন, সবাইকে একই কথা বলছেন, এটার কারণ কি?

তখন শায়খ উত্তর দিল, এটাতো কুরআন থেকেই বলছি,

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارً

ايُرْسِلِ السَّمَاء عَلَيْكُم مِّدْرَارً

اوَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا

অর্থঃ “অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন। (সূরা নূহ, ৭১: ১০-১২)

এ সবকিছুই, ইস্তেগফার বলার জন্য, আল্লাহ সুবহানা ওয়া তাআলার দিকে ফিরে আসার জন্য, আল্লাহ সুবহানা ওয়া তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য।

ইস্তেগফার করুন, হে মুসলিম ভাই এবং বোনেরা।

.

অতীতের স্কলারদের মধ্যে খুব প্রখ্যাত একজন ছিলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বেল।

উনাকে বলা হত, আহলে সুন্নাহর একজন ইমাম।

বছরের পর বছর তিনি কারাগারে এবং বাসায় বন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন, তবুও দ্বীনের ব্যাপারে তিনি উনার অবস্থা থেকে সামান্য পরিমাণেও নড়েন নি।

সেজন্য উনার সুনাম এবং খ্যাতি পুরো মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল, প্রত্যেকে উনাকে চিনত।

কিন্তু সেসময় কোন সেলফি ছিল না, আপনারা জানেন।

আপনি কোন ছবি শেয়ার করতে পারতেন না।

সেজন্য শুধুমাত্র উনার পাশের কিছু মানুষ, উনার ছাত্ররা এবং জ্ঞানের অনুসারীরাই কেবল জানতেন যে তিনি দেখতে কেমন।

অধিকাংশ মানুষই উনাকে দেখেন নি। কিন্তু তারা উনার ব্যাপারে শুনেছিল।

তো, ইমাম আহমাদ(র) একবার উনার শহর থেকে অন্য একটা শহরে সফরে গেলেন।

এবং যখন তিনি সেই শহরে পৌঁছলেন তখন রাত হয়ে গেছে। তিনি একটি মসজিদে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি মসজিদে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলেন কারণ সেই সময়ে সেখানে কোন হোটেল বা সেইরকম কোন ব্যবস্থা ছিল না।

তখন মসজিদের প্রহরী আসল এবং বলল,  এখান থেকে বের হও, বের হও, বের হও মসজিদ থেকে।

তখন তিনি বললেন, দেখ, আমি একজন মুসাফির, আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমি এখানে শুধু আগামীকাল পর্যন্ত থাকব তারপর আমার পথে বেরিয়ে পড়ব।

গার্ড বলল, না, না, এখনি বের হও।

সুতরাং শায়খ বের হয়ে এলেন এবং মসজিদের বাইরের দরজায় এসে বসলেন।

আপনি চিন্তা করতে পারেন! এরকম একজন মানুষ, যখন তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেন, শত শত মানুষ উনার সাথে হেঁটে যেত। তারা উনার মাথায় চুমো খেত, এবং উনার বইগুলো ধরে রাখত।

এবং বলত, হেই! ইমাম আহমাদ, ইমাম আহমাদ!

যাইহোক তিনি মসজিদের দরজার বাইরে এসে বসেছেন, তখন গার্ড এসে আবার বলল, আমি তোমাকে যেতে বলিনি?

তিনি বললেন, আমি তো বাইরেই আছি। সে বলল, না, যাও এখান থেকে। এভাবে উনাকে ধরে পথে নামিয়ে দিল।

ইমাম আহমাদ! সুবহান আল্লাহ।

যখন তিনি রাস্তার মাঝে চলে এলেন, সেখানে রাস্তার পাশে একটা রুটির দোকান ছিল। সেই রুটি দোকানদার উনাকে দেখলেন এবং এগিয়ে এলেন। দোকানদারটি উনার মধ্যে  ধার্মিকতা এবং তাকওয়ার চিহ্ন দেখতে পাচ্ছিলেন।

সেই রুটি দোকানদার এগিয়ে এসে বললেন, আমার এখানে আসুন এবং আমার দোকানে ঘুমান। আমি এখানে সারারাত রুটি তৈরি করি। কারণ লোকজন ফজরের সময় রুটি কেনার জন্য আসবে। আমি আমার কাজ করি, আপনি এখানে ঘুমান।

ইমাম আহমাদ (র) উনাকে শুকরিয়া জানালেন এবং ভিতরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন। কিন্তু তিনি সেই দোকানদারকে দেখছিলেন যে, প্রত্যেকবার রুটি তৈরি করার সময় সে বলে, আসতাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ…

তিনি তাকে পুরো রাত ধরে ইস্তেগফার করতে দেখলেন…

ইমাম উনার কাছে গেলেন, এবং জিজ্ঞেস করলেন, কতদিন ধরে আপনি এই অভ্যেস জারি রেখেছেন? কতদিন ধরে আপনি এটা প্র্যাকটিস করছেন?

সে উত্তর দিলঃ দীর্ঘ দিন ধরে…

তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কত দিন ?

সে বলল, দীর্ঘ দিন ধরে..

তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এটার কোন উপাকারিতা পেয়েছ? কারণ কেউ তার জিকর এবং ইস্তেগফারে এতটা ধারাবহিকতা বজায় রাখতে পারে না,.. যদিনা আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দয়া করেন।

সে উত্তর দিল, আমি অনুভব করেছি যে আমি যেই দোআই করেছি আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেছেন শুধুমাত্র একটি ব্যতীত যেটি তিনি এখনও কবুল করেন নি।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সেই দোআটা কি ছিল?

সে বলল যে, আমি দোয়া করেছিলাম, ইয়া রব্ব, আমাকে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিন, কত দিন ধরে আমি উনাকে দেখি নি।

তখন শায়খ বললেন, সুবহান আল্লাহ।

আল্লাহ আমার পা কে এই পর্যন্ত টেনে এনেছেন, তার বেকারীতে, একটাই কারণ। চিন্তা করুন, আমার শহরের বাইরে, তার বাড়িতে,

যখন আমি প্রত্যাখ্যাত হচ্ছিলাম। আল্লাহ তোমার দো’আর উত্তর হিসেবে আমার পা কে এই পর্যন্ত টেনে এনেছেন।

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا

প্রিয় ভাই এবং বোনেরা আল্লাহ দিকে ফিরে আসুন।

রাসূল (সাঃ) বলেন, আমি প্রতিদিন একশত বারেরও অধিক ইস্তেগফার করি।

ইস্তেগফারের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আস্তাগফিরুল্লাহ, ও আল্লাহ, আমায় ক্ষমা করুন।

 

আল্লাহর কসম, এটা আমি শুধু বলতে সুন্দর দেখায় বলে বলছি না,

আপনার সকল সমস্যার উত্তর হচ্ছে আল্লাহ রব্বুল ইজজা।

আপনার সকল জটিলতার আশ্রয়দাতা হচ্ছেন আল্রাহ রব্বুল ইজজা।

আল্লাহ দিকে ফিরুন। ওয়াল্লাহি, আপনি কেবল একবার আল্লাহর দিকে ফিরে দেখুন,

আপনি আপনার প্রভূকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে দয়ালুর চেয়েও অধিক দয়ালু হিসেবে পাবেন।

 

– অনূদিত ও সম্পাদিত।

Source: https://goo.gl/jSnATW

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*