প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)

পৃথিবীর ইতিহাসে আদর্শ মানবদের কথা বলতে গেলে সর্বপ্রথমেই যার নাম আসে তিনি হলেন ইসলামের শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সঃ)। শুধু মুসলিমদের কাছেই নন বরং অমুসলিমরাও উনার জীবন ইতিহাস পড়ে, গবেষণা করে একথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে অনুসরণীয়, অনুকরণীয় অন্যতম আদর্শ মানব হলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ)। এমনই একজন অমুসলিম লেখক ‘মাইকেল এইচ হার্ট’ তার বিখ্যাত বই ‘The Hundred’ এ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ্য একশত মানবের তালিকায় মুহাম্মদ (সঃ) কে রেখেছেন সবার প্রথমে।

বেড়ে ওঠা

জন্মের ছয়মাস পূর্বেই হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর পিতা মারা যান। তৎকালীন আরবের রীতি অনুযায়ী জন্মের পর মানুষ হন দুধমাতা হালিমার কাছে। মুহাম্মদ (সঃ) ছাড়াও মা হালিমার নিজের একটি সন্তান ছিল। শিশু মুহাম্মদ (সঃ) সর্বদা উনার এক স্তন থেকে দুধ পান করতেন এবং অন্যটি রেখে দিতেন সেই দুধভাইয়ের জন্য। এভাবে শিশুকাল থেকেই মুহাম্মদ (সঃ) সমবন্টন ও ন্যায়বিচারের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ছয় বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর মুহাম্মদ (সঃ) এর মাতাও মারা যান। এরপর মানুষ হতে থাকেন দাদা আব্দুল মোত্তালিবের কাছে। কিন্তু আট বছর বয়সে সেই দাদাও মারা যান। ফলে একেবারে এতিম হয়ে পড়েন তিনি। তখন থেকেই সকল এতিম এবং বঞ্চিত মানুষদের প্রতি উনার পরম মমত্ববোধ জন্মে। দাদা আব্দুল মোত্তালিব মারা যাওয়ার পর তিনি চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বড় হতে থাকেন।

খাদিজা (রা) এর সাথে বিয়ে

হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ছোটবেলা থেকেই সত্যবাদী ছিলেন। কখনও মিথ্যা বলতেন না। ভালো কাজে, ভালো কথায় তিনি ছিলেন সকলের চেয়ে অগ্রসর এবং প্রশংসিত। অংগীকার পালনে ছিলেন সকলের চেয়ে অগ্রণী, আমানতদারির ক্ষেত্রে ছিলেন অতুলনীয়। এজন্যই  স্বজাতির লোকেরা তার নাম রেখেছিল  আল-আমিন অর্থাৎ বিশ্বাসী। সেই সময়ে খাদিজা ইবনে খোয়াইলিদ ছিলেন একজন অভিজাত ও ধনবতী মহিলা। তিনি বিভিন্ন লোককে দিয়ে পণ্য কিনতেন এবং সেসব পণ্য বিক্রি করাতেন। বিবি খাদিজা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সততা, সচ্চরিত্রতা এবং নম্রতার কথা শুনে তাঁকে ব্যবসায় নিয়োগের জন্য প্রস্তাব পাঠান। মুহাম্মদ (সঃ) সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে বিবি খাদিজার ব্যবসায়িক পণ্য এবং ক্রীতদাস মায়ছারাকে সঙ্গে করে সিরিয়া যান। বিবি খাদিজা লক্ষ্য করেন যে, সেইবার ব্যবসায় তাঁর লাভ অনেক বেশি হয়েছে। এছাড়া ভৃত্য মায়ছারার কাছে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর উন্নত চরিত্র, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদির ভূয়সী প্রশংসা শুনে  বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। এর কিছুদিন পরেই বিবি খাদিজার সাথে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর বিয়ে হয়।

নবুয়ত লাভের পূর্ব থেকেই হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে সবাই বিশ্বাস করত, সম্মান এবং শ্রদ্ধা করত। সবার বিভ্ন্নি প্রয়োজনে তিনি ছুটে যেতেন। বিভ্ন্নি সমস্যার বুদ্ধীদ্বীপ্ত সমাধান দিতেন। এরকমই একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় আরবদের ইবাদাতের স্থান কাবা ঘর পুণঃনির্মানের সময়। কাবা ঘর যখন কিছু অংশ নির্মান হল তখন হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর নির্মান নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এটাকে সবাই অনেক সম্মানের কাজ বলে মনে করত, তাই সব গোত্রই এই সম্মান অর্জন করতে চাচ্ছিল। বিরোধ যখন প্রচন্ড আকার ধারন করল তখন আবু উমাইয়া মাখজুমি নামক এক ব্যক্তি এর একটা উপায় বের করলেন। তিনি বললেন আগামীকাল প্রত্যুষে যে হারাম শরীফের দরজা দিয়ে সর্বপ্রথমে প্রবেশ করতে পারবে তার সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নেবে। পরদিন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) সবার আগে কাবাঘরে প্রবেশ করলেন। সবাই উনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নিলেন। তখন মুহাম্মদ (সঃ) একটি চাদর বিছিয়ে তার উপর পাথরখানি রাখলেন। অতঃপর বিবাদমান সব গোত্রের নেতাদের চাদরের পাশ ধরে সেটিকে যথাস্থানে নিয়ে যেতে বললেন। এই সিদ্ধান্ত সকলেই সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিল। এখানেও উনার বুদ্ধীদ্বীপ্ততা ও ন্যয়বিচারের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।

নবুয়াত লাভ

হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ছিলেন চিন্তাশীল এবং গম্ভীর প্রকৃতির। সেই সময় আরব সমাজের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। সবাই ছিল জাহিলিয়াতে নিমগ্ন। ঝগড়া-বিবাদ, চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি যত প্রকারের খারাপ কাজ ছিল তার প্রায় সবই বিদ্যমান ছিল। বিভ্ন্নি গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ লেগেই থাকত। সবার মধ্যে অশান্তি বিরাজ করত। মানুষ মেয়ে সন্তানদের নিজেদের জন্য অকল্যাণ মনে করত। ফলে কারো মেয়ে সন্তান জন্মালে নিজ মেয়েকে জীবন্ত পুঁতে ফেলার মত নিকৃষ্ট কাজ করতেও দ্বিধা করত না। এমন পরিস্থিতিতে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) খুবই ব্যথিত এবং মর্মাহত ছিলেন। তিনি এসব নিয়ে সর্বদা চিন্তিত থাকতেন যে কিভাবে এসব দূর করা যায়। সমাজটাকে আরো সুন্দর করা যায়, শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়। এজন্য তিনি মক্কা থেকে কিছু দূরে হেরা গুহায় গিয়ে নির্জনে ধ্যানমগ্ন থাকতেন।

চল্লিশ বছর বয়সে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় তিনি নবুয়তপ্রাপ্ত হন। ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) মহান আল্লাহ তাআলার বাণী নিয়ে মুহাম্মদ (সঃ) এর নিকট আসেন। মুহাম্মাদ (সঃ) সেই সত্য বাণী প্রচারে আত্ননিয়োগ করেন। কিন্তু এতদিনের বিশ্বস্ততা, সত্যবাদীতা সত্ত্বেও আরবরা রাসূল (সঃ) এর সত্য বাণী প্রত্যাখ্যান করে। তারা মেনে তো নেয় না বরং বাপ-দাদার মেনে আসা ধর্মের বিরুদ্ধে বলছে বলে রাসূল (সঃ) এর উপর নানারকম অত্যাচার নীপিড়ন শুরু করে। কিন্তু শত বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও রাসূল (সঃ) উনার লক্ষ্য ছেড়ে এক চুলও পিছপা হননি। মুশরিকরা রাসূল (সঃ)-কে আরবের নেতৃত্ব, আরবের শ্রেষ্ঠ্য সুন্দরী নারীদের সাথে বিবাহ ইত্যাদির বিনিময়ে ধর্মপ্রচার থেকে বিরত থাকার প্রস্তাব দেয়। রাসূল (সঃ) নির্ভীকভাবে উত্তর দেন, ‘আমার এক হাতে সূর্য এবং অপর হাতে চন্দ্র এনে দিলেও আমি এই সত্য প্রচারে পিছপা হব না।’ এর থেকেই বোঝা যায় নিজের লক্ষ্যের প্রতি, নিজের মিশনের প্রতি উনি কি পরিমাণ অবিচল ছিলেন।

হিজরত এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা

নবুয়তপ্রাপ্তির পর দীর্ঘ তেরো বছরে রাসূল (সঃ) মাত্র অল্প কিছু সংখ্যক অনুসারী পান যারা আল্লাহর সত্য বাণী নির্দ্বিধায় মেনে নেন। কিন্তু অত্যাচার নীপিড়নের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করলে তিনি তার সাহবীদের সঙ্গে নিয়ে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করতে বাধ্য হন। সেই মদীনাতেই প্রথম ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সূচনা হয়। ইসলাম যে মানুষের জীবনে শান্তি বয়ে আনতে পারে সেটা তিনি মদীনাতে বাস্তব প্রয়োগ করে দেখিয়ে দেন। সবার মাঝে মক্কার পূর্ব জীবনের জাহেলিয়াত বিলুপ্ত হয়। মানুষে-মানুষে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন হয়। সমাজে ধনী-গরীব ব্যবধান দূর হয়। সবাই সবাইকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে শিখে। বংশকৌলিন্য প্রথা দূর হয়। সর্বোপরি একটি আদর্শ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়।

কিন্তু পরিস্থিতি এভাবেই থেমে থাকে না। মক্কার মুশরিকরা এই সমাজব্যবস্থার ধারক-বাহক মুসলিমদের পৃথিবী থেকে ধূলিস্মাত করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে মদীনা আক্রমনে রওনা হয়। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এই অভিযানের খবর পেয়ে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত তিনশত তেরো জনের এক দল নিয়ে এই আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য বের হন। বদর পাহাড়ের প্রান্তরে উভয় দলের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ইতিহাসে এটি বদর যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে রাসূল(সঃ) এর নেতৃত্ব, মুসলিমদের সাহসিকতা এবং আল্লাহর সাহায্যে মুশরিকদের প্রায় দেড় হাজারের বিশাল বাহিনী পরাজিত হয়।

এর কিছুদিন পর মুসলিমরা মক্কার কাবাঘরে হজ্বের উদ্দেশ্যে গেলে মুশরিকরা বাধা দেয়। যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মুসলিম এবং মুশরিকদের মধ্যে একটি চুক্তি হয় যা মদীনা সনদ নামে পরিচিত। রাসূল (সঃ) যুদ্ধের চেয়ে শান্তিকেই যে বেশি প্রাধান্য দিতেন তা ভালভাবেই বোঝা যায়। কিন্তু পরে মুশরিকরা এই চুক্তি ভঙ্গ করলে রাসূল (সঃ) এর নেতৃত্বে মুসলিমরা মক্কা আক্রমণ করে। মুশরিকরা মুসলিমদের সাহসিকতায় ভীত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকে। ফলে বিনা যুদ্ধেই রাসূল (সঃ) এর নেতৃত্বে মুসলিম সেনাবাহিনী মক্কা জয়লাভ করে। যারা ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক যুগে রাসূল(সঃ) এর উপর এত অত্যাচার, নিপীড়ন করেছিল মক্কা জয়ের পর তিনি তাদের সকলকেই ক্ষমা করে দেন। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধের ইতিহাসে যুদ্ধজয়ী সেনাবাহিনীদের পরাজিতদের উপর হত্যা, লুন্ঠণ, অত্যাচার, নিপীড়ন ছিল একেবারে সাধারণ ব্যপার। সেখানে রাসূল (সঃ) বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করে বলেন, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত।’ এভাবে সবাইকে ক্ষমা করে দিয়ে যুদ্ধজয়ী সেনাপতিদের জন্য এক বিরল এবং অনুপম আদর্শ স্থাপন করেন।

উত্তম আখলাক

হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ছিলেন সকলের চেয়ে অধিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, উন্নত চরিত্রের অধিকারী, সম্মানিত প্রতিবেশী, সর্বাধিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন, সকলের চেয়ে অধিক সত্যবাদী, সকলের চেয়ে কোমলপ্রাণ ও সর্বাধিক পবিত্র পরিচ্ছন্ন মনের অধিকারী। আল্লাহ তাআলা নিজেই তাঁর চরিত্রের ব্যপারে বলেছেন যে, ‘ইন্নাকা লা আলা খুলুকিন আযীম’, অর্থাৎ নিঃসন্দেহে আপনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। আরও বলেছেন, ‘তিনি রহমাতাল্লিল আ’লামিন’-অর্থাৎ তিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ এবং অনুগ্রহ। হযরত খাদিজা (রাঃ) সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি বিপদগ্রস্তদের বোঝা বহন করতেন, দুঃখী দরিদ্র লোকদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতেন, মেহমানদারি করতেন এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার কাজে সাহায্য করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (সঃ) ছিলেন সবার চেয়ে অধিক দানশীল। হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, কখনোই এমন হয়নি যে, কেউ উনার কাছে কিছু চেয়েছে অথচ তিনি তা দিতে অসম্মতি জানিয়েছেন।

নবী (সঃ) ছিলেন অতি বিনয়ী ও নিরহংকার। বাদশাহদের সম্মানে তাদের সেবক ও গুনগ্রাহীরা যে রকম বিনয়াবনত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে, নবী (সঃ) তাঁর সম্মানে সাহাবাদের সেভাবে দাঁড়াতে নিষেধ করতেন। তিনি মিসকিন গরীবদের সেবা এবং ফকিরদের সাথে উঠাবসা করতেন। ক্রীতদাসদেরও নিমন্ত্রন গ্রহণ করতেন। সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে সাধারণ মানুষের মতোই বসতেন।

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিনি নিজের জুতো নিজেই সেলাই করতেন। নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। ঘরের সাধারণ কাজ কর্ম নিজের হাতে করতেন। তিনি ছিলেন অন্য সব সাধারণ মানুষের মতোই একজন মানুষ। নিজের ব্যবহৃত কাপড়ে উকুন থাকলে তিনি নিজে তা বের করতেন, নিজ হাতে বকরি দোহন করতেন, নিজের কাজ নিজেই করতেন।

তাঁর সন্নিকটে যারা থাকতেন তারা ছিলেন সবচেয়ে ভাল মানুষ। ওদের মধ্যে তারাই ছিলেন তার কাছে ভালো, যারা ছিলেন পরোপকারী। তাঁর কাছে ওদের মর্যাদাই ছিলো অধিক অর্থাৎ তার দৃষ্টিতে তাঁরাই ছিলেন সর্বোত্তম, যারা ছিলেন অন্যের দুঃখে কাতর, স্বভাবতই গম্ভীর এবং অন্যের সাহায্যকারী।

উনার সংস্পর্শে এসে সাহাবীরা কিরুপ গুণে গুণান্বিত হয়েছিলেন তা পরবর্তী ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনাবলিতে অমর হয়ে আছে। জাহেলিয়াতে নিমজ্জিত, অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি সমাজকেও যে পৃথিবীর মানুষদের জন্য আদর্শে পরিণত করা যায় তার আদর্শ স্থাপন করেছেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।

অমুসলিম মনীষিদের মন্তব্য

ন্যায়পরায়ণ অমুসলিম গবেষকরাও অকুন্ঠচিত্তে এর স্বীকৃতি দিয়েছেন। মাইকেল এইচ হার্ট তার বিখ্যাত ‘The Hundred’ বইয়ে মুহাম্মদ (সঃ) কে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যাক্তিত্ব হিসেবে স্থান দিয়ে উনার সম্পর্কে বলেন, ‘My choice of Muhammad to lead the list of the world’s most influential persons may surprise some readers and may be questioned by others, but he was the only man in history who was supremely successful on both the religious and secular levels. Today, thirteen centuries after his death, his influence is still powerful and pervasive.’.

আরেক বিখ্যাত অমুসলিম সাহিত্যিক ও দার্শনিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেন, ‘I believe that if a man like Muhammad were to assume the dictatorship of the modern world he would succeed in solving its much needed peace and happiness.’  

শেষ কথা

আজ হয়তো তিনি একজন অসহায় ব্যাক্তির প্রয়োজন পুরা করার জন্য চেষ্টা করেছেন। আগামীকাল বিবাদমান দুই দলের মধ্যে সমঝোতা করেছেন। আরেকদিন কাফেরদের শান্তির পথে দাওয়াত দিচ্ছেন। এভাবেই দিনের পর রাত এসেছে। যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্য এসেছে। অস্থি-মজ্জা দুর্বল হয়েছে। তিনি জীবন সায়াহ্নে উপনীত হয়েছেন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*