মাদ্রাসায় পড়া ছাড়াই কি হিফজ করা সম্ভব?

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহিমাহুল্লাহ) স্যার চল্লিশ বছর বয়সে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। রিয়াদে মাস্টার্সে পড়াকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পবিত্র কুরআনের ১৮ পারা মুখস্ত করা নির্ধারিত ছিল। তিনি উক্ত ১৮ পারা মুখস্ত করেন। তারপর বাকি পারাগুলো বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও এ্যাম্বেসীতে যাওয়া-আসার পথে গাড়িতে বসেই প্রায় চল্লিশ বছর বয়সে হিফজ সম্পন্ন করেন এবং দেশে এসে পুরোপুরি ইয়াদ করেন।

ড. আবুবকর যাকারিয়া শায়খের চার ছেলের মধ্যে বড় তিনজনই হাফেজ। উনার ছোট ছেলে উমরের সাথে কথা বলছিলাম। সে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে এবং পাশাপাশি সেও হিফজ করতেছে। ইতিমধ্যেই ১১ পারা হিফজ করে ফেলেছে। এরা সবাই বাসাতে থেকেই হিফজ করেছে। বাসায় নিজে নিজে মুখস্ত করে এবং হুজুরের কাছে গিয়ে শোনায়।

কুরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য আরবী ভাষা শেখা এবং হিফজ করার কোন বিকল্প নেই। আমরা ভাবি যে মাদ্রাসায় না পড়লে বোধহয় হিফজ করা সম্ভব না। এটা ঠিক নয়। ফিলিস্তিনে ছেলেমেয়েরা তাদের বার্ষিক ছুটির সময় মসজিদে গ্রুপ আকারে একত্রিত হয়ে হিফজ করে। কুরআন নাযিলের পর সাহবীগণও (রাঃ) ধীরে ধীরে মুখস্ত করে নিতেন। অনেকে শেষ বয়সে হিফজ সম্পন্ন করেছেন। এটা যদিও কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। সেইরকম ডেডিকেশন দিয়ে চেষ্টা করলে এবং আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করলে এটা সম্ভব।

আমরা যারা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়ি তারা অন্য সবকিছুর পাশাপাশি হিফজ করা শুরু করতে পারি। নিজে নিজে মুখস্ত করে কোন হুজুরের কাছে গিয়ে শোনাতে পারি। লাগুক দশ, পনের কিংবা বিশ বছর। তিরিশ, চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছর বয়সেও যদি হিফজ সম্পন্ন করতে পারি তাহলেও তো বিশাল ব্যাপার। আর পুরোটা না পারলে অর্ধেকও যদি পারি তাও অনেক। কুরআন ভিত্তিক সমাজ কায়েমের জন্য কুরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি আবশ্যক। আর কুরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য আরবী ভাষা শেখা এবং হিফজ করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*