মিসরের মানসুরাহ শহরের একটি গরীব পরিবারের ঘটনা

গল্পটা এক মহিলার। যিনি মিসরের মানসুরাহ শহরে বাস করতেন। সেই মহিলা বলেন, ‘আমি খুব গরীব একটি পরিবার থেকে এসেছিলাম।’
উনার স্বামী কোন একটি কারণে অনুপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, একদিন সন্ধ্যায় আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সে এমন জ্বরে ভুগতে শুরু করল যা পূর্বে কখনো হয়নি। আমার তার জন্য কিছুই করার ছিল না। খাবার কেনার জন্য আমার কাছে কোন অর্থ ছিল না। আমরা সেই সন্ধ্যায় অভুক্ত ছিলাম। তার ঔষধ কেনার জন্যও আমার কাছে কোন অর্থ ছিল না।

আমি দুই রাকাআত সালাত আদায় করলাম এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলাম। তারপর আমার মেয়ের কাছে ফিরে গেলাম।
আমি আবার প্রার্থনা করলাম এবং আল্লাহর উপর আমার বিশ্বাস রাখলাম। আবার আমার মেয়ের কাছে ফিরে গেলাম।

এভাবে বেশ কয়েক ঘন্টা পার হয়ে গিয়েছিল। তখন ছিল মধ্যরাত। রাত ১২ টা অথবা ১ টা বাজছিল। তখন দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ শুনলাম।

কে ওটা?? সেখানে ছিল ডাক্তার… হ্যাঁ ডাক্তার।

সুতরাং আমি হিজাব পরিধান করলাম এবং দরজা খুলে সালাম দিলাম,
-আস সালামুআলাইকুম।
-ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
-‘মেয়েটি কোথায়।’ ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন।
-আমি উত্তর দিলাম, ‘সে রুমে আছে।’ আল্লাহুআকবার। কে উনাকে পাঠাল??”

ডাক্তার রুমে এলেন এবং সেই মেয়েকে দেখলেন। তার জন্য প্রেসক্রিপশন দিলেন। তারপর উঠে গেলেন। বললেন, ‘আমার ফি দিন প্লিজ।’

তখন সেই মহিলা কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি বললেন,
-‘ডাক্তার আপনাকে দেওয়ার মত আমার কাছে কিছুই নেই।’
-‘আপনি কি বলতেছেন? এটা কিরকম অভদ্রতা!! আপনার নিজের প্রতি লজ্জা করা উচিত, আপনার কি কোন লজ্জা নেই!! আপনি আমাকে এত রাতে আপনার মেয়ের জন্য কল দিয়েছেন। অথচ আপনি জানেন যে আমাকে পরিশোধ করার মত আপনার কাছে কিছুই নেই।

– মহিলা বললেন, ডাক্তার, ওয়াল্লাহি, আমি আপনাকে কল করিনি। আমার কাছে এমনকি একটা ফোন কেনার মত পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এমনকি আমরা এই সন্ধ্যায়ও কিছু খাই নি।
– আপনি আমাকে কল করেন নি এর মানে কি!! এই বাসার নাম্বার কি এত এত নয়?? ডাক্তার জিজ্ঞেস করল।
– না, এটা এর পরের দরজা।

ডাক্তার কাঁদতে শুরু করলেন। কারন তিনি বুঝতে পারলেন যে, এটা ছিল আল্লাহ, যিনি তাকে এই জায়গায় পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, প্লিজ আমাকে আবার ভিতরে আসতে দিন।
-ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, আপনার স্টোরি কী? কে আপনি? এটা কিভাবে ঘটল?

তিনি উনাকে পুরো ব্যাপারটা খুলে বললেন।
ডাক্তার বুঝলেন। তারপর সেই সন্ধ্যায় উনাদের খাবার কিনে দিলেন। এরপর তিনি বাইরে গিয়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনে উনাদের দিয়ে আসলেন। এবং তাদের জন্য মাসিক কিছু টাকা দেওয়ারও ব্যবস্থা করলেন।

এটা নিশ্চিত যে আপনাদের কাউকে যদি এইরকম কোন গল্প বলার কথা বলা হয়, আপনারাও বলতে পারবেন। যখন আপনার আল্লাহকে প্রয়োজন ছিল, এবং আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে যাওয়ার কোন রাস্তা ছিল না। তখন আল্লাহ আপনাকে তা দিয়েছেন। আল্লাহুআকবার।
.
– উস্তায আলী হাম্মুদা’র একটি লেকচার থেকে অনূদিত।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*